Skip to main content

সারগোসি বিতর্ক


সারগোসি বা গর্ভ ভাড়া আধুনিক বিশ্বে একটি অন্যতম মানবতাবিরোধী কাজ। নিম্নবিত্ত এবং দারিদ্র্য দেশ সমূহ তে বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, থাইল্যান্ড, সারগোসি প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি জনপ্রিয়।

যদিও বর্তমানে এসব দেশের আইনে সারগোসি বিষয়টা সিদ্ধ বিষয়।

তথাকথিত উদারপন্থী মানবতাবাদী সংস্থাগুলো কখনোই সারগোসি এর বিরুদ্ধে বলে না।

কারণ এসব সংগঠন পুঁজিবাদের হাতের পুতুল।

এটা হল কিছু টাকার বিনিময়ে একজন নারীর গর্ভ অন্য আরেকজন পুরুষের সন্তান জন্ম দেওয়ার মেশিন হিসেবে ব্যবহার করা। 

এখন কথা হল সেই ব্যক্তির স্ত্রী কেন সন্তান ধারণ নাকরে টাকার বিনিময়ে অন্য একজন নারীর গর্ভে তার স্বামীর বীর্য এর দ্বারা সন্তান ধারণ করায়।

সারোগেসি সাধারণত দুই রকমের হয়। একটি হচ্ছে পার্শিয়াল সারোগেসি এবং আরেকটি হচ্ছে ট্রু সারোগেসি।

১) পার্শিয়াল সারোগেসি অনেকদিন ধরেই চলে আসছে, সন্তানধারণে এখানে মা কোন ভূমিকাই পালন করেন না। বাবার শুক্রাণু আর সারোগেট মায়ের ডিম্বানু থেকে জন্ম হয় শিশুর।

২) ট্রু সারোগেসি তে মায়ের ডিম্বাণু এবং বাবার শুক্রাণু নিয়ে ল্যাবে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। এরপর সেই এম্ব্রায়ো বা ভ্রূণ সারোগেট মায়ের ইউটিরেস বা জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে সারোগেসির এই পদ্ধতিটি বেশিরভাগ দম্পতি গ্রহণ করেন।

পার্শিয়াল সারোগেসির ক্ষেত্রে সাধারণত সারোগেট মাদারের ডিম্বাণু এবং গর্ভ ভাড়া নেওয়া হয়। এর ফলে এই পদ্ধতিতে সারোগেসির ক্ষেত্রে সন্তানের ওপর সারোগেট মাদারের একটি জৈবিক অধিকার থেকেই যায়। তবে ট্রু সারোগেসি পদ্ধতি অবলম্বন করলে দম্পতির পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নিয়ে কোনো সংশয় থাকে না। কারণ এই পদ্ধতিতে মায়ের শুক্রাণুর সাথে স্পার্ম ব্যাংকের অন্য পুরুষের শুক্রাণু কিম্বা বাবার শুক্রাণু অন্য মহিলার ডিম্বানুর সাথে নিষিক্ত করে ভ্রূণ তৈরি করা হয়।

তবে আইভিএফ পদ্ধতিতে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু নিষিক্ত করা কে টেস্টটিউববেবী মনে করা যায় না। টেস্টটিউব বেবি এবং সারোগেছি ভিন্ন পদ্ধতি।

সারগোসরির  কয়েকটি কারণ আছে। 

তার ভিতর অন্যতম হলো অজুহাত। 

এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেই স্ত্রীর ক্রিটিক্যাল মেডিকেল সিচুয়েশন। 

তবে সিংহ ভাগ ক্ষেত্রেই আধুনিক উচ্চ শিক্ষিত নারী সমাজ সন্তান ধারণ করে নিজের ফিটনেস এবং সৌন্দর্যকে নষ্ট করতে চায়না। 

আর্থিক একারণেই দারিদ্র্য এবং নিম্নমধ্যবিত্ত বিভিন্ন সমাজের নারীদের গর্ভ কে ব্যবহার করে সন্তান নিয়ে থাকে। 

ঠিক এধরনের উচ্চশিক্ষিত আধুনিক মানসিকতার সুশীল মানুষগুলোই আবার বলবে এত বেশি বাচ্চাকাচ্চা নেওয়ার কি দরকার, রাস্তাঘাটে তো অনেক পথশিশু আছে যাদের কে ঘরে এনে লালন-পালন করা যায়। 

তাহলে তারা কেন নিজেদের ক্ষেত্রে এই তথ্যটি প্রয়োগ করে না।কেন দরিদ্র এবং নিপীড়িত সম্প্রদায়ের নারীদেরকে তারা এখানে ব্যবহার করে থাকে। এর উত্তর তাদের কাছে নেই।


আমার দৃষ্টিতে অর্থের বিনিময়ে নিম্নবিত্ত এবং দরিদ্র নারীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে তাদের গর্ভ সন্তান জন্ম দেওয়ার মেশিন হিসেবে ব্যবহার করা এই শতাব্দীর অন্যতম জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ।


কিন্তু আলোক ঝলমলে মিডিয়ার খুব সহজেই আমাদের আইওয়াশ এবং ব্রেইন ওয়াশ করতে পারে। তারা সারগোসি কে পজিটিভলি সাধারণ মানুষের সামনে রিপ্রেজেন্ট করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে থাকে কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হলো এটি মোটেও মানবিক কাজ নয়।

Comments

Popular posts from this blog

সৌদি আরব সম্পর্কিত কিছু অভাবনীয় তথ্য

 গভর্নমেন্টের বেসিক আইন শর্ত করে যে সৌদি আরবের সংবিধান হ'ল পবিত্র কোরআন। MBS  (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922706411151513/) ★সৌদি আরব তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনও আন্তর্জাতিক চাপ সহ্য করবে না।MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922721687816652/) [News feed creator- ( KHALADUL ISLAM SAEEM)/ fb: khaladul.islam.129] ★সৌদি আরব ভয় পায় না, এবং ভয় সৌদিআরবের ডিকশনারিতে নেই। MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922723931149761/) ★চরমপন্থিরা(সন্ত্রাসীরা) সৌদি আরবকে লক্ষ্য করেছিল কারণ এটি মুসলমানদের কিবলা। এবং এদের লক্ষ্য ছিল ইসলামী বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922719987816822/) ★সৌদি আরব তার সীমান্তে কোনও সশস্ত্র জঙ্গীদের সহ্য করবে না। MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922723294483158/) ★যে কোনও ব্যক্তি, যিনি চরমপন্থী(সন্ত্রাসবাদ) অবস্থান অবলম্বন করেন, তিনি অপরাধী এবং সে শাস্তিযোগ্য।MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922709851151169...

ফিলিস্তিনের কৌশলগত যুদ্ধ

 ইসরাইলের বিরুদ্ধে দুই ধরনের মৌলিক যুদ্ধ সবসময় চালিয়ে যেতে হবে, একটি হল Fighting with diplomacy এবং অপরটি হল Fighting in Battle ground । এক্ষেত্রে PLO এর পুরনো ভূমিকায় ফিরতে হবে। ফাতাহ ও হামাসকে ফিলিস্তিনের পক্ষে সর্বোচ্চ কাজ করে যেতে হবে। যেন ইজরায়েল একইসাথে কূটনৈতিকভাবে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামরিকভাবেও চাপে থাকে। এক্ষেত্রে আরব উপদ্বীপের রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গুলোর পক্ষে সবচাইতে বড় কর্মকাণ্ড হবে এটাই যে, তারা সারা পৃথিবীতে ইসরাইল আগ্রাসন বিরোধী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে। এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ইজরায়েলের যত ধরনের আগ্রাসী ভূমিকায় আসবে সেগুলোকেই কূটনৈতিক নীতির মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে হবে। কেননা আরব রাজতান্ত্রিক দেশ গুলির উপর এমনিতেই কথিত মানবাধিকারসহ আরো অন্যান্য বিভিন্ন চাপ আছে। আবার এসব মানবাধিকারের পেছনেও ইসরায়েল ও ইসরায়েলকে সমর্থনকারী পরাশক্তির নিয়ন্ত্রণ আছ। আরও সুবিধাজনক হলো অন্যান্য মুসলিম বিশ্বের উচিত বিশ্ব রাজনীতির বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আরব রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সমূহকে সমর্থন করা। যেন তারা তাদের নিজেকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজেদের একান্তই সমর্থন হীন মনে না করে।  একই...

ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রমে বিতর্ক

 যাকাত ভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। তবে এক্ষেত্রে যতটা তুলনামূলক কম সুদী লেনদেন করা যায় ততটাই ভালো। বাংলাদেশে এমন কোন ইসলামি ব্যাংক খুঁজে পাওয়া যাবে না যেটা সুদ মুক্ত। আমি নিজে যতজন ইসলামিক স্কলার এর বক্তব্য শুনেছি তারা কেউ বলেনি যে ইসলামী ব্যাংক সুদ মুক্ত। তারা ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন কে জায়েজ বলেছে। কেননা ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক ধরনের জনমত তৈরী করার চেষ্টা করছে। আর যেহেতু আমাদের অর্থব্যবস্থা সুদ মুক্ত নয়। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে লেনদেন রাখতে হয় সুতরাং ইসলামী ব্যাংক শতভাগ সুদ মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নাই। আর ইসলামী ব্যাংকের নামে যারা ঢালাওভাবে সুদ লেন-দেন করছে তাদের বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা।