Skip to main content

Posts

বাংলার লোকসংস্কৃতি (পর্ব-০১)

  লোকসংস্কৃতি হলো, "লোকসম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্বাস, আচার-আচরণ, জীবন-যাপন পদ্ধতি ও সাংস্কৃতিক মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সংস্কৃতি।" এটা সম্পূর্ণই তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। দীর্ঘকাল ধরে গড়ে ওঠা এই সংস্কৃতি তাদের প্রকৃত পরিচয় বহন করে। বাংলাদেশের সংস্কৃতির ধারা তিনটি: নগরসংস্কৃতি, গ্রামসংস্কৃতি ও উপজাতীয় সংস্কৃতি। বাংলাদেশ যেহেতু একটি গ্রাম প্রধান দেশ। গ্রামের বিশাল জনগোষ্ঠী নিজস্ব জীবনপ্রণালীর মাধ্যমে শতকের পর শতক ধরে যে বহুমুখী ও বিচিত্রধর্মী সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে, তা-ই বাংলার লোকসংস্কৃতি নামে অভিহিত। বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি মূলত হিন্দু ধর্মালম্বীদের বিভিন্ন লোকজ ও পৌরাণিক দেব-দেবী। যেমন: (লক্ষ্মী, মনসা,শীতলা, ষষ্ঠী, ওলাদেবী, বনদূর্গা) এর প্রচলিত বিশ্বাস এবং এসব দেব-দেবীর বিপরীতে নিম্নবর্গের মুসলমানদের বিভিন্ন কাল্পনিক চরিত্র। যেমন:(সত্যপীর, গাজীপীর, মানিকপীর, মাদারপীর, খোয়াজ খিজির, ঘোড়াপীর, বনবিবি, ওলাবিবি, হাওয়া বিবি)উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।  সত্যনারায়ণ ও সত্যপীর, বনদুর্গাদুর্গা ও বনবিবি যে একই ভাবনার ভিন্ন রূপ তাতে সন্দেহ নেই। এছাড়াও বলীখেলা, নৌকা বাইচ,...
Recent posts

কাতারের কূটনৈতিক সক্ষমতা

 আমি মাঝেমধ্যে সার্কেলে একটা কথা বলি,  কাতারের কূটনৈতিক সক্ষমতা প্রচুর। মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশ সমূহের মধ্যে একমাত্র কাতারের নিজস্ব কূটনৈতিক দৃষ্টি ভঙ্গি আছে। তারা অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ যেমন: সৌদি আরব, আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান এর মত গঁদ বাধা মুখস্ত আঞ্চলিক রাজনীতি করেনা। আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিষয়াবলী কাতারের অবস্থান সবসময়ই ভারসাম্যপূর্ণ হয়।  বিগত সময়গুলোতে  ইন্দোনেশিয়া ও পূর্ব তিমুর ইস্যু, ফিলিপাইন- মিন্দারাও ইস্যু, কাশ্মীর ইস্যু, আফগানিস্তান ইস্যুতে কাতারের অবস্থান মুসলিম বিশ্বে সবসময়ই প্রশংসনীয়। ফিলিস্তিন ইস্যতে বিশেষ করে গাজার প্রতি কাতারের অবস্থান অন্যান্য যেকোন আরব দেশের চেয়ে শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট। কাতার রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতি কাতার অবস্থান খুবই ভারসাম্য পূর্ণ। যেখানে সৌদি আরব, আমিরাত, বাহরাইন, এরমত রাজতান্ত্রিক দেশগুলো ইসলামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন গুলোর সরাসরি বিরুধিতা করে। এবংকি নির্মুলে সব ধরনের কার্যকলাপে লিপ্ত সেখানে কাতারের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাতার নিজে রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়েও মিশরের ব্রা/দা/র/হ...

প্রজন্মের কাছে কারবালার বার্তা

ইমাম হুসাইন (রা) এর বাণী সূত্র: ইন্টারনেট   ১০ মহররম কারবালা প্রান্তরে উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদের বাহিনীর হাতে নির্মম হত্যার শিকার হন,  রাসূল (স) এর বংশের(আহলে বাইত) এর পবিত্র ধারক,রাসূলে আরাবি মুহাম্মদ মুস্তফা (স) এর দৌহিত্র আল ইমামুল মুসলিমিন হুসাইন বিন আলী(রা)। ইমাম হুসাইন (রা) কে হত্যার পর তার তার ছিন্ন মাথা যিয়াদের দরবারে হাজির করা হয়। উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ নিকৃষ্ট মানসিকতার পরিচয় দিয়ে ইমাম হুসাইন (রা) এর চেয়ারায় তরবারি দিয়ে খুচাতে থাকে। ইমাম হুসাইন (রা) এর চেহারা মুবারক রাসূল(স) এর অনেকটা কাছাকাছি ছিলো। রাসূলের বংশের ধারক ইমাম হুসাইন (রা) দুনিয়া থেকে চলে গেলেন মহা অসহায়, মজলুম হয়ে।  হুসাইন (রা) স্মরণে সূত্র: ইন্টারনেট ফেরাউন বনু ইসরায়েলের উপর এতোটা নিষ্ঠুর হয়নি যতটা অত্যাচার হুসাইন তথাপি আমিরুল মুমিনিন মওলা আলী ইবনে আলী তালিব (রা) এর পরিবার এর উপর হয়েছিল।মাঝে মাঝে মনে হয়, মাওলা আলী(রা) ও তার দুই পুত্র ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন এই ধরণীর বুকে নির্যাতিত হতেই এসেছিলো কি? বিত্তবান হয়েও নিতান্তই গরীবি জীবনযাপন তামাম বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, রাসূল(স) এই জগতের খাতামুল আম্বীয়...

বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ এর ইতিহাস

  বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ এর ৭৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দলটির ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত (https://www.albd.org/bn/) ২৩ জুন ১৯৪৯,  ১৭৫৭ এর পলাশীর প্রান্তরের পরাজয়ের দগদগে যন্ত্রণায় জন্ম নেয় একটি রাজনৈতিক দল -বাংলাদেশ আওয়ামী মুসলিম লীগ।  তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অধিকার স্বায়ত্তশাসন, ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় দলটি। দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন লাল মাওলানা হিসেবে পরিচিত  মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক সাহেব। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি - মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী; ছবি- উইকিপিডিয়া) শামসুল হক(প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক)  ছবি: উইকিপিডিয়া  প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী মুসলিম লীগ পূর্ব পাকিস্তানের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়।যার ফলশ্রুতিছে ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে  যুক্তফ্রন্ট ২৩৭ টি আসনের মধ্যে ২২৩ টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। যার মধ্যে আওয়ামী মুসলিম লীগ এককভাবে ১৪৩ আসনে জয় লাভ করে। এরপর থেকেই আওয়ামী মুসলিম লীগ পাকিস্তানের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের ৩য় সম্মেলনে "...

প্রথম সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

 ২২ফেব্রুয়ারী ২০২৩, জাতীয়ভাবে পালন হলো সৌদি আরব এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। আজ থেকে প্রায়ই ৩০০ বছর আগে ১৭২৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম সৌদি রাষ্ট্র। চিত্র: ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ বিন মুহাম্মদ বিন মুকরিন যার অপর নাম ছিলো দিরিয়া আমিরাত। যদিও দিদিয়ার ইমামগণ ১৪৪৬ সাল থেকেই গোত্রীয় শাসন পরিচালনা করে আসছিল সৌদি আরবের এই অঞ্চল সমূহে। তার চাচা মুকরিন বিন মুহাম্মদ এবং যুবরাজ যায়েদ বিন মারখানের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। আল-উয়াইনাহ গোত্রের সাথে দিরিয়া আমিরাতের সংঘাত। প্লেগ রোগের বিস্তার।  যুবরাজ জায়েদ বিন মারখানের হত্যার কারণে দিরিয়া আমিরাত পূর্বের সময়ের তুলনায়  দুর্বল ও বিভাজনের শিকার হয়েছিল। কিন্তু ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ এসব চ্যালেঞ্জ মুকাবিলা করে দিরিয়াকে তার শাসনাধীনে একত্রিত করেন এবং আশেপাশের অঞ্চল সমূহে স্থিতিশীলতা সুসংহত করেন।  একইসাথে প্রচন্ড ধার্মিক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অধিকার ইমাম সৌদ ক্ষমতা আরোহনের পর প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। তার শাসনকার্য পরিচালনার ৬টি বিষয়ের উপর জোর দেন-...

আমাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক

ছবি: সংগৃহিত  ইদানিং কোনো একটি দাখিল মাদ্রাসায় ক্রিড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছাত্রীদের আরবি গানের সাথে নৃত্য  ভাইরাল হয়েছে।  এটা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নির্ভর আমজনতার অন্যতম আলোচ্য বিষয়। অনেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে আইনের আওতায় আনার মত আবেগী বক্তব্য দিয়ে বসেছেন। বাংলাদেশের ইদানিং একটি এটি সাধারণ চর্চা।  যে কোন বিষয়ে না ভেবেই শিক্ষকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।  ধরতে গেলে শিক্ষকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এখন একটি প্রচলিত ও জনপ্রিয় ট্রেন্ড। আপনাকে প্রথমে বুঝতে হবে বাংলাদেশের অধিকাংশ দাখিল ও আলিম মাদ্রাসা সমূহ কিভাবে চলে এবং এর বাস্তবতা।  মাদ্রাসা শিক্ষা বলতেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষা বুঝে থাকি।কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ দাখিল মাদ্রাসা ও আলিম মাদ্রাসা সমূহ গতানুগতিক জেনারেল ভাবেই চালানো হয়। বাস্তবতা এ রকমই বলে।  এসব দাখিল বা আলিম মাদ্রাসা সমূহের অনেক শিক্ষকই নামাজই পড়ে না। অন্য ধর্মেরও আছে কিছু কিছু।  সহজ কথা বলতে আপনাকে বুঝতে হবে "এসব দাখিল মাদ্রাসা বা আলিম মাদ্রাসা সমূহ ভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে না, যা অবশ্...

ইউসুফ আল কারজাভি ও গাদ্দাফি নামা

  মিশরের প্রখ্যাত আলেম আল-কারযাভী এর মৃত্যুতে একটি শোক বার্তা দিয়েছেন কাতারের বর্তমান আমির এর মা মযা বিনতে নাসের।  ইউসুফ আল কারযাভী এই শতাব্দীর অন্যতম বড় এবং সমালোচিত আলেম। ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্যে কথিত আরব বসন্তের পর থেকেই তার কর্মকাণ্ড যথেষ্ট বিতর্কিত ছিলো। আরব রাষ্ট্রগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা একনায়ক দের বিরুদ্ধে সে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড এর আধ্যাতিক গুরু ছিলেন।  ফলে তার বক্তব্য প্রভাবিত ও অনুপ্রানিত অনেক তরুণ হাতে অস্ত্র তুলে নেয় এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। সাধারণ মানুষ এটা বুঝতে পারেনি যে, ক্ষমতার পালাবদল এর চেয়ে বড় হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ভেঙে পরে।  এসব বিদ্রোহে সরাসরি আমেরিকার সমর্থন থাকায় তারা সফলও হয়। কিন্তু বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলে ব্যর্থ হয় ব্রাদারহুড। কেননা আমেরিকা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব আরও সুসংহত করতে শুধু মাত্র ব্রাদারহুড কে ব্যবহার করেছে। আমেরিকার মূল উদ্দেশ্যই ছিলো, লিবিয়া, সিরিয়া, মিশর থেকে আমেরিকা বিরুধি শাসকদের হটানো এবং মার্কিন পন্থী কাওকে ক্ষমত...

<<[সুলতান সুলাইমান এর কাছে শাহজাদা মুস্তাফার চিঠি]>>

হে পিতা আমার মহান সুলতান সুলাইমান, এই চিঠিটি আমি নিজের হৃদয় থেকে লিখেছি।  হয়ত এই চিঠিটি আপনার কাছে পৌছাতে নাও পারে। আর যদি চিঠিটি আপনার কাছে পৌছেও যায়। তাহলে হয়ত চিঠি পৌছানোর আগেই আপনি আমাকে হত্যা করবেন। আপনাকে, নিরপরাধ সন্তানের হত্যাকারী পিতাকে ও এই নিষ্ঠুর পৃথিবীকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি। কারণ সুন্দর জীবন আর ক্ষমতার জন্য নিজের বাবাকে হত্যা করে একজন অত্যাচারির মত জীবনযাপন করার চেয়ে, অত্যাচারিত হয়ে মৃত্যুবরণ শ্রেয়। আমার নাম ইতিহাসে আপনার মত স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে না। কেউ আমার বিজয়গাঁথা লিখবে না।  পৃথিবীর শাসনকর্তা হিসেবে সিংহাসনে আমার বসা হবে না।  বরং আমার নাম লেখা থাকবে একজন বিশ্বাসঘাতক আর বিদ্রোহী শাহজাদা হিসেবে।  আমি আপনার সাথে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, আমি আপনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করব না আর আপনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে আপনি আমাকে আঘাত করবেন না। আমি আমার প্রতিশ্রুতি রেখেছি বাবা। কিন্তু আপনি আপনার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। এভাবেই লিখতে দিন, লিখতে দিন যে, আমি আল্লাহর অপছন্দের বান্দা ছিলাম। কিন্তু এমন একদিন আসবে যেদিন, সত্য প্রকাশ হয়ে যাবে। সেটা হয়তো অনেক বছর পরে অথবা শতবছ...

বঙ্গবন্ধু ও ধর্মনিরপেক্ষতাঃ কিছু না বলা কথা

 শেখ মুজিবুর রহমান এর মৃত্যুর পর বাংলাদেশে তার দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষতা অনেকটাই আদর্শচ্যুত হয়ে গেছে। যার কারণে প্রচলিত ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ধর্মনিরপেক্ষতার একটা মৌলিক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। আর যদি ইউরোপীয় কনভেনশনাল ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হতো তাহলে ধর্মমন্ত্রনালয়ের প্রয়োজন পড়তো না। তাহলে মুসলিম আইন হিন্দু আইন আলাদা আলাদা হওয়ার কোন দরকারই ছিল না। রাষ্ট্রীয় বিধি-নিষেধ ধর্ম থেকে কখনোই মুক্ত নয়। রাষ্ট্রীয় বিধি নিষেধ গুলো কোন না কোনভাবে ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে থাকে স্বাভাবিকভাবে। তবে এটাও সত্য যে বাংলাদেশের মত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সমূহ শতভাগ ধর্মীয় আইন দ্বারা পরিচালিত হয় না। ইউরোপে ধর্মনিরপেক্ষতার জন্ম হয়েছিল মূলত সেখানকার ধর্মযাজকদের ধর্মের নামে শত শত বছর যাবত পরিচালিত বিভিন্ন অপকর্ম এর বিরোধিতা করতে গিয়ে। এর জন্য ইউরোপের সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে তখন ইউরোপে তাদের নিজস্ব ধর্ম এখন আর মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে না। এর পিছনে বিগত এক হাজার বছরের ধর্মের নামে বিভিন্ন অপকর্ম দায়ী। কেননা ইউরোপের প্রচারিত ...

সারগোসি বিতর্ক

সারগোসি বা গর্ভ ভাড়া আধুনিক বিশ্বে একটি অন্যতম মানবতাবিরোধী কাজ। নিম্নবিত্ত এবং দারিদ্র্য দেশ সমূহ তে বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, থাইল্যান্ড, সারগোসি প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি জনপ্রিয়। যদিও বর্তমানে এসব দেশের আইনে সারগোসি বিষয়টা সিদ্ধ বিষয়। তথাকথিত উদারপন্থী মানবতাবাদী সংস্থাগুলো কখনোই সারগোসি এর বিরুদ্ধে বলে না। কারণ এসব সংগঠন পুঁজিবাদের হাতের পুতুল। এটা হল কিছু টাকার বিনিময়ে একজন নারীর গর্ভ অন্য আরেকজন পুরুষের সন্তান জন্ম দেওয়ার মেশিন হিসেবে ব্যবহার করা।  এখন কথা হল সেই ব্যক্তির স্ত্রী কেন সন্তান ধারণ নাকরে টাকার বিনিময়ে অন্য একজন নারীর গর্ভে তার স্বামীর বীর্য এর দ্বারা সন্তান ধারণ করায়। সারোগেসি সাধারণত দুই রকমের হয়। একটি হচ্ছে পার্শিয়াল সারোগেসি এবং আরেকটি হচ্ছে ট্রু সারোগেসি। ১) পার্শিয়াল সারোগেসি অনেকদিন ধরেই চলে আসছে, সন্তানধারণে এখানে মা কোন ভূমিকাই পালন করেন না। বাবার শুক্রাণু আর সারোগেট মায়ের ডিম্বানু থেকে জন্ম হয় শিশুর। ২) ট্রু সারোগেসি তে মায়ের ডিম্বাণু এবং বাবার শুক্রাণু নিয়ে ল্যাবে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। এরপর সেই এম্ব্রায়ো বা ভ্রূণ সারোগেট মায়ের ইউটিরেস বা ...