হে পিতা আমার মহান সুলতান সুলাইমান,
এই চিঠিটি আমি নিজের হৃদয় থেকে লিখেছি।
হয়ত এই চিঠিটি আপনার কাছে পৌছাতে নাও পারে। আর যদি চিঠিটি আপনার কাছে পৌছেও যায়। তাহলে হয়ত চিঠি পৌছানোর আগেই আপনি আমাকে হত্যা করবেন।
আপনাকে, নিরপরাধ সন্তানের হত্যাকারী পিতাকে ও এই নিষ্ঠুর পৃথিবীকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি।
কারণ সুন্দর জীবন আর ক্ষমতার জন্য নিজের বাবাকে হত্যা করে একজন অত্যাচারির মত জীবনযাপন করার চেয়ে, অত্যাচারিত হয়ে মৃত্যুবরণ শ্রেয়।
আমার নাম ইতিহাসে আপনার মত স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে না।
কেউ আমার বিজয়গাঁথা লিখবে না।
পৃথিবীর শাসনকর্তা হিসেবে সিংহাসনে আমার বসা হবে না।
বরং আমার নাম লেখা থাকবে একজন বিশ্বাসঘাতক আর বিদ্রোহী শাহজাদা হিসেবে।
আমি আপনার সাথে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, আমি আপনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করব না আর আপনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে আপনি আমাকে আঘাত করবেন না।
আমি আমার প্রতিশ্রুতি রেখেছি বাবা।
কিন্তু আপনি আপনার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন।
এভাবেই লিখতে দিন,
লিখতে দিন যে, আমি আল্লাহর অপছন্দের বান্দা ছিলাম।
কিন্তু এমন একদিন আসবে যেদিন, সত্য প্রকাশ হয়ে যাবে।
সেটা হয়তো অনেক বছর পরে অথবা শতবছর পরে।
মানুষজন আমার শোকগাথা লিখবে।
এভাবে সবাই জানতে পারবে আসলে কি ঘটেছিলো শাহজাদা মুস্তাফার সাথে।
আর তখনই সবাই বুঝতে পারবে,
শাহজাদা মুস্তাফার উপর ঠিক কতটা অবিচার করা হয়েছে।
[০৬ অক্টোবর ১৫৫৩ সালে, সুলতান সুলাইমান, দ্বিতীয় স্ত্রী কতৃক প্ররোচিত হয়ে মৃত্যুদন্ড দেন।
সমাপ্তি ঘটে উসমানী সালতানাত এর সবচেয়ে যোগ্য শাহজাদার জীবনের।]

Comments
Post a Comment