মিশরের প্রখ্যাত আলেম আল-কারযাভী এর মৃত্যুতে একটি শোক বার্তা দিয়েছেন কাতারের বর্তমান আমির এর মা মযা বিনতে নাসের।
ইউসুফ আল কারযাভী এই শতাব্দীর অন্যতম বড় এবং সমালোচিত আলেম। ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্যে কথিত আরব বসন্তের পর থেকেই তার কর্মকাণ্ড যথেষ্ট বিতর্কিত ছিলো।
আরব রাষ্ট্রগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা একনায়ক দের বিরুদ্ধে সে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড এর আধ্যাতিক গুরু ছিলেন।
ফলে তার বক্তব্য প্রভাবিত ও অনুপ্রানিত অনেক তরুণ হাতে অস্ত্র তুলে নেয় এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। সাধারণ মানুষ এটা বুঝতে পারেনি যে, ক্ষমতার পালাবদল এর চেয়ে বড় হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ভেঙে পরে।
এসব বিদ্রোহে সরাসরি আমেরিকার সমর্থন থাকায় তারা সফলও হয়।
কিন্তু বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলে ব্যর্থ হয় ব্রাদারহুড। কেননা আমেরিকা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব আরও সুসংহত করতে শুধু মাত্র ব্রাদারহুড কে ব্যবহার করেছে। আমেরিকার মূল উদ্দেশ্যই ছিলো, লিবিয়া, সিরিয়া, মিশর থেকে আমেরিকা বিরুধি শাসকদের হটানো এবং মার্কিন পন্থী কাওকে ক্ষমতায় বসানো।
মাঝখানে ২০১১ পরবর্তী ১২ বছরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ২০ লক্ষ সাধারণ মানুষ নিহত হয়।
যা ব্রাদারহুড কল্পনাও করতে পারেনি।
যে এতোটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
ইউসুফ আল কারজাভি, লিবিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ গাদ্দাফিকে হত্যার পক্ষে ফতোয়া দিয়ে বসেন।
কিন্তু মোহাম্মদ গাদ্দাফিকে হত্যার পর সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছে লিবিয়াতে তারা কতবড় ভুল করেছে।
দিন শেষে এক অপরিণত সিদ্ধান্তের ফলে লিবিয়া সহ সিরিয়া, ইয়েমেন একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত হয়।
এসব বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের জন্য সৌদি আরব, আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, সুদান তার সকল বই দেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তিনিও তার দেশ মিশর থেকে বিতাড়িত হন। কাতারে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।
এবং এর জেরেই সৌদি,আমিরাত কাতারের উপর অবরোধ আরোপ করে। সৌদি আরব অভিযোগ করে- কাতার মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় মদদ দেন। এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন প্রেট্রোনাইজ করে।
এই অভিযোগ একদমই অমূলক ছিল না।
কাতার যে সবসময়ই ডাবল মিরর পলিসি নেয় এটাও প্রকাশিত হয়ে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন চ্যানেলে তার মৃত্যু সংবাদ প্রচারের পর একটা বৃহৎ অংশের দর্শক হাহা রিয়েক্ট দিয়েছে যা আশানুরূপ ই ছিলো।
%20(30).jpeg)

Comments
Post a Comment