Skip to main content

আমাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক


ছবি: সংগৃহিত 

ইদানিং কোনো একটি দাখিল মাদ্রাসায় ক্রিড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছাত্রীদের আরবি গানের সাথে নৃত্য  ভাইরাল হয়েছে। 

এটা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নির্ভর আমজনতার অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

অনেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে আইনের আওতায় আনার মত আবেগী বক্তব্য দিয়ে বসেছেন।

বাংলাদেশের ইদানিং একটি এটি সাধারণ চর্চা। 

যে কোন বিষয়ে না ভেবেই শিক্ষকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। 

ধরতে গেলে শিক্ষকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এখন একটি প্রচলিত ও জনপ্রিয় ট্রেন্ড।

আপনাকে প্রথমে বুঝতে হবে বাংলাদেশের অধিকাংশ দাখিল ও আলিম মাদ্রাসা সমূহ কিভাবে চলে এবং এর বাস্তবতা। 

মাদ্রাসা শিক্ষা বলতেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষা বুঝে থাকি।কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ দাখিল মাদ্রাসা ও আলিম মাদ্রাসা সমূহ গতানুগতিক জেনারেল ভাবেই চালানো হয়। বাস্তবতা এ রকমই বলে। 

এসব দাখিল বা আলিম মাদ্রাসা সমূহের অনেক শিক্ষকই নামাজই পড়ে না। অন্য ধর্মেরও আছে কিছু কিছু। 

সহজ কথা বলতে আপনাকে বুঝতে হবে "এসব দাখিল মাদ্রাসা বা আলিম মাদ্রাসা সমূহ ভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে না, যা অবশ্যই করা উচিত ছিল।" 

বিশ্বাস না হলে আপনি আপনার এলাকায় বা আপনার বাড়ির আশেপাশে এ ধরনের মাদ্রাসাগুলোর দিকে লক্ষ্য করুন। দেখবেন তারা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ছেলে এবং মেয়ের সহ-শিক্ষা কার্যক্রম,ফ্রি-মিক্সিং, শিক্ষা সফরের নামে বাস ভাড়া নেচে গেয়ে হৈ-হুল্লোড় করা। 

এসব সবই এসব মাদরাসায় হয়ে থাকে।

এসব আরও ১৫ বছর আগে থেকেই হয়। হাইস্কুল ও এসব দাখিল মাদ্রাসার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হল- এসব মাদরাসায় নামকাওয়াস্তে কিছু ধর্মীয় বই পড়ানো হয়। তবে এসব মাদ্রাসায় যতটুকু ধর্মচর্চা হয়ে থাকে সেটার অধিকাংশ  হয় ব্যক্তিগত বা সামাজিক উদ্যোগের ফলে। 

এবং অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনসমূহের সাথে যুক্ত থাকার কারণে। 

এটা হয়তো ভাইরাল হয়েছে তাই এতো আলোচনা।

আমরা যারা এসব মাদরাসা দেখে অভ্যস্ত তারা ছাত্রজীবনে এসব মাদরাসা কে কখনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করিনি।

শুধু শুধু অযাচিত মন্তব্য করে শিক্ষকদের দোষের কাঠ গড়ায় দাঁড় করানো মোটেও ইনসাফ পূর্ণ না।

আবার একপেশে চিন্তাভাবনায় সরকারকে দোষারোপ করা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বাস্তবতার নিরিখে এ সমস্ত দাখিল বা আলিম মাদ্রাসা সমূহকে শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রূপান্তরের জন্য যা যা করা অতীব জরুরী তা এখনই করতে হবে।

কেননা উক্ত সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানের তালে মেয়ে শিক্ষার্থীদের নৃত্য মোটেও রোগ না, রোগের উপলক্ষ মাত্র।

Comments

Popular posts from this blog

সৌদি আরব সম্পর্কিত কিছু অভাবনীয় তথ্য

 গভর্নমেন্টের বেসিক আইন শর্ত করে যে সৌদি আরবের সংবিধান হ'ল পবিত্র কোরআন। MBS  (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922706411151513/) ★সৌদি আরব তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনও আন্তর্জাতিক চাপ সহ্য করবে না।MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922721687816652/) [News feed creator- ( KHALADUL ISLAM SAEEM)/ fb: khaladul.islam.129] ★সৌদি আরব ভয় পায় না, এবং ভয় সৌদিআরবের ডিকশনারিতে নেই। MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922723931149761/) ★চরমপন্থিরা(সন্ত্রাসীরা) সৌদি আরবকে লক্ষ্য করেছিল কারণ এটি মুসলমানদের কিবলা। এবং এদের লক্ষ্য ছিল ইসলামী বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922719987816822/) ★সৌদি আরব তার সীমান্তে কোনও সশস্ত্র জঙ্গীদের সহ্য করবে না। MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922723294483158/) ★যে কোনও ব্যক্তি, যিনি চরমপন্থী(সন্ত্রাসবাদ) অবস্থান অবলম্বন করেন, তিনি অপরাধী এবং সে শাস্তিযোগ্য।MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922709851151169...

ফিলিস্তিনের কৌশলগত যুদ্ধ

 ইসরাইলের বিরুদ্ধে দুই ধরনের মৌলিক যুদ্ধ সবসময় চালিয়ে যেতে হবে, একটি হল Fighting with diplomacy এবং অপরটি হল Fighting in Battle ground । এক্ষেত্রে PLO এর পুরনো ভূমিকায় ফিরতে হবে। ফাতাহ ও হামাসকে ফিলিস্তিনের পক্ষে সর্বোচ্চ কাজ করে যেতে হবে। যেন ইজরায়েল একইসাথে কূটনৈতিকভাবে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামরিকভাবেও চাপে থাকে। এক্ষেত্রে আরব উপদ্বীপের রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গুলোর পক্ষে সবচাইতে বড় কর্মকাণ্ড হবে এটাই যে, তারা সারা পৃথিবীতে ইসরাইল আগ্রাসন বিরোধী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে। এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ইজরায়েলের যত ধরনের আগ্রাসী ভূমিকায় আসবে সেগুলোকেই কূটনৈতিক নীতির মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে হবে। কেননা আরব রাজতান্ত্রিক দেশ গুলির উপর এমনিতেই কথিত মানবাধিকারসহ আরো অন্যান্য বিভিন্ন চাপ আছে। আবার এসব মানবাধিকারের পেছনেও ইসরায়েল ও ইসরায়েলকে সমর্থনকারী পরাশক্তির নিয়ন্ত্রণ আছ। আরও সুবিধাজনক হলো অন্যান্য মুসলিম বিশ্বের উচিত বিশ্ব রাজনীতির বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আরব রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সমূহকে সমর্থন করা। যেন তারা তাদের নিজেকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজেদের একান্তই সমর্থন হীন মনে না করে।  একই...

ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রমে বিতর্ক

 যাকাত ভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। তবে এক্ষেত্রে যতটা তুলনামূলক কম সুদী লেনদেন করা যায় ততটাই ভালো। বাংলাদেশে এমন কোন ইসলামি ব্যাংক খুঁজে পাওয়া যাবে না যেটা সুদ মুক্ত। আমি নিজে যতজন ইসলামিক স্কলার এর বক্তব্য শুনেছি তারা কেউ বলেনি যে ইসলামী ব্যাংক সুদ মুক্ত। তারা ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন কে জায়েজ বলেছে। কেননা ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক ধরনের জনমত তৈরী করার চেষ্টা করছে। আর যেহেতু আমাদের অর্থব্যবস্থা সুদ মুক্ত নয়। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে লেনদেন রাখতে হয় সুতরাং ইসলামী ব্যাংক শতভাগ সুদ মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নাই। আর ইসলামী ব্যাংকের নামে যারা ঢালাওভাবে সুদ লেন-দেন করছে তাদের বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা।