Skip to main content

প্রথম সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

 ২২ফেব্রুয়ারী ২০২৩, জাতীয়ভাবে পালন হলো সৌদি আরব এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। আজ থেকে প্রায়ই ৩০০ বছর আগে ১৭২৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম সৌদি রাষ্ট্র।

চিত্র: ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ বিন মুহাম্মদ বিন মুকরিন


যার অপর নাম ছিলো দিরিয়া আমিরাত। যদিও দিদিয়ার ইমামগণ ১৪৪৬ সাল থেকেই গোত্রীয় শাসন পরিচালনা করে আসছিল সৌদি আরবের এই অঞ্চল সমূহে।

তার চাচা মুকরিন বিন মুহাম্মদ এবং যুবরাজ যায়েদ বিন মারখানের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। আল-উয়াইনাহ গোত্রের সাথে দিরিয়া আমিরাতের সংঘাত। প্লেগ রোগের বিস্তার। 

যুবরাজ জায়েদ বিন মারখানের হত্যার কারণে দিরিয়া আমিরাত পূর্বের সময়ের তুলনায়  দুর্বল ও বিভাজনের শিকার হয়েছিল।

কিন্তু ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ এসব চ্যালেঞ্জ মুকাবিলা করে দিরিয়াকে তার শাসনাধীনে একত্রিত করেন এবং আশেপাশের অঞ্চল সমূহে স্থিতিশীলতা সুসংহত করেন। 

একইসাথে প্রচন্ড ধার্মিক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অধিকার ইমাম সৌদ ক্ষমতা আরোহনের পর প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন।

তার শাসনকার্য পরিচালনার ৬টি বিষয়ের উপর জোর দেন-

বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে ঐক্য স্থাপন, 

শিক্ষা বিস্তার, সংস্কৃতির প্রসার, গোত্রপতিদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা, সমাজিক নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা বজায় রাখা।

দিরিয়ার আমির যায়েদ বিন মারখান 

আল-উয়াইনার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু আল-উয়ায়নার শাসক মুহাম্মদ বিন হামাদ বিন মুয়াম্মার বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি এই অভিযানকে প্রতিহত করতে পারবেন না। তাই তিনি শান্তি চুক্তির আহ্বান জানায়। যার ফলে দিরিয়ার আমির যুবরাজ যায়েদ বিন মাখরান , মুহাম্মদ বিন সৌদ সহ প্রায় 40 জন রাজকুমার এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে আল-উয়ায়নাতে প্রবেশ করেন। কিন্তু মুহাম্মদ বিন হামাদ বিন মুয়াম্মার তাদের হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তদনুসারে, যুবরাজ যায়েদ এবং তার সাথে যারা ছিল তাদের বেশিরভাগই নিহত হয়েছিল। শুধু মুহাম্মদ বিন সৌদ এবং তার সাথে থাকা কয়েকজন প্রাসাদের একটি টাওয়ারে আশ্রয় নিয়েছিল। তারপর আল-জাওহারা বিনতে আবদুল্লাহ বিন মুয়াম্মার এর নিরাপত্তা নিয়ে টাওয়ার থেকে নেমে আসেন। এরপর তিনি দিরিয়াতে ফিরে আসেন, যেখানে তিনি নতুন রাষ্ট্রের ইমাম হিসেবে শপথ নেন।



ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রতিশোধের পথে না গিয়ে ২২ফেব্রুয়ারী ১৭২৭ সালে পারস্পরিক ঐক্য এবং সহাবস্থান এর মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন প্রথম সৌদি রাষ্ট্র।


চিত্র: দিরিয়া আমিরাত (প্রথম সৌদি রাষ্ট্র) 

১৭৬৫ সালের মৃত্যু পর্যন্ত প্রায় চল্লিশ বছর তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। তার মৃত্যুর পর তার ৪ সন্তান আব্দুল আজিজ, ফয়সাল, সৌদ বিন মুহাম্মদ ও আব্দুল্লাহ পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় আসেন।

#বিদ্র: ইমাম সৌদ এর নাম অনুসারে বর্তমান সৌদি আরব এর নামকরণ করা হয়(সৌদ আল আরব/ইমাম সৌদ এর আরব)। যা বর্তমানে সৌদি আরব নামে পরিচিত।

Comments

Popular posts from this blog

সৌদি আরব সম্পর্কিত কিছু অভাবনীয় তথ্য

 গভর্নমেন্টের বেসিক আইন শর্ত করে যে সৌদি আরবের সংবিধান হ'ল পবিত্র কোরআন। MBS  (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922706411151513/) ★সৌদি আরব তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনও আন্তর্জাতিক চাপ সহ্য করবে না।MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922721687816652/) [News feed creator- ( KHALADUL ISLAM SAEEM)/ fb: khaladul.islam.129] ★সৌদি আরব ভয় পায় না, এবং ভয় সৌদিআরবের ডিকশনারিতে নেই। MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922723931149761/) ★চরমপন্থিরা(সন্ত্রাসীরা) সৌদি আরবকে লক্ষ্য করেছিল কারণ এটি মুসলমানদের কিবলা। এবং এদের লক্ষ্য ছিল ইসলামী বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922719987816822/) ★সৌদি আরব তার সীমান্তে কোনও সশস্ত্র জঙ্গীদের সহ্য করবে না। MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922723294483158/) ★যে কোনও ব্যক্তি, যিনি চরমপন্থী(সন্ত্রাসবাদ) অবস্থান অবলম্বন করেন, তিনি অপরাধী এবং সে শাস্তিযোগ্য।MBS (https://www.facebook.com/137192489702943/posts/3922709851151169...

ফিলিস্তিনের কৌশলগত যুদ্ধ

 ইসরাইলের বিরুদ্ধে দুই ধরনের মৌলিক যুদ্ধ সবসময় চালিয়ে যেতে হবে, একটি হল Fighting with diplomacy এবং অপরটি হল Fighting in Battle ground । এক্ষেত্রে PLO এর পুরনো ভূমিকায় ফিরতে হবে। ফাতাহ ও হামাসকে ফিলিস্তিনের পক্ষে সর্বোচ্চ কাজ করে যেতে হবে। যেন ইজরায়েল একইসাথে কূটনৈতিকভাবে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামরিকভাবেও চাপে থাকে। এক্ষেত্রে আরব উপদ্বীপের রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গুলোর পক্ষে সবচাইতে বড় কর্মকাণ্ড হবে এটাই যে, তারা সারা পৃথিবীতে ইসরাইল আগ্রাসন বিরোধী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে। এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ইজরায়েলের যত ধরনের আগ্রাসী ভূমিকায় আসবে সেগুলোকেই কূটনৈতিক নীতির মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে হবে। কেননা আরব রাজতান্ত্রিক দেশ গুলির উপর এমনিতেই কথিত মানবাধিকারসহ আরো অন্যান্য বিভিন্ন চাপ আছে। আবার এসব মানবাধিকারের পেছনেও ইসরায়েল ও ইসরায়েলকে সমর্থনকারী পরাশক্তির নিয়ন্ত্রণ আছ। আরও সুবিধাজনক হলো অন্যান্য মুসলিম বিশ্বের উচিত বিশ্ব রাজনীতির বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আরব রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সমূহকে সমর্থন করা। যেন তারা তাদের নিজেকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজেদের একান্তই সমর্থন হীন মনে না করে।  একই...

ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রমে বিতর্ক

 যাকাত ভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। তবে এক্ষেত্রে যতটা তুলনামূলক কম সুদী লেনদেন করা যায় ততটাই ভালো। বাংলাদেশে এমন কোন ইসলামি ব্যাংক খুঁজে পাওয়া যাবে না যেটা সুদ মুক্ত। আমি নিজে যতজন ইসলামিক স্কলার এর বক্তব্য শুনেছি তারা কেউ বলেনি যে ইসলামী ব্যাংক সুদ মুক্ত। তারা ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন কে জায়েজ বলেছে। কেননা ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক ধরনের জনমত তৈরী করার চেষ্টা করছে। আর যেহেতু আমাদের অর্থব্যবস্থা সুদ মুক্ত নয়। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে লেনদেন রাখতে হয় সুতরাং ইসলামী ব্যাংক শতভাগ সুদ মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নাই। আর ইসলামী ব্যাংকের নামে যারা ঢালাওভাবে সুদ লেন-দেন করছে তাদের বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা।