![]() |
| বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ এর ৭৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দলটির ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত (https://www.albd.org/bn/) |
২৩ জুন ১৯৪৯,
১৭৫৭ এর পলাশীর প্রান্তরের পরাজয়ের দগদগে যন্ত্রণায় জন্ম নেয় একটি রাজনৈতিক দল -বাংলাদেশ আওয়ামী মুসলিম লীগ।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অধিকার স্বায়ত্তশাসন, ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় দলটি। দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন লাল মাওলানা হিসেবে পরিচিত মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক সাহেব।
![]() |
| প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি - মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী; ছবি- উইকিপিডিয়া) |
![]() |
| শামসুল হক(প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক) ছবি: উইকিপিডিয়া |
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী মুসলিম লীগ পূর্ব পাকিস্তানের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়।যার ফলশ্রুতিছে ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭ টি আসনের মধ্যে ২২৩ টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। যার মধ্যে আওয়ামী মুসলিম লীগ এককভাবে ১৪৩ আসনে জয় লাভ করে।
এরপর থেকেই আওয়ামী মুসলিম লীগ পাকিস্তানের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের ৩য় সম্মেলনে "মুসলিম" শব্দটি বাদ দেওয়া হয় অসাম্প্রদায়িক দল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক শাসন এর রক্তচক্ষু অপেক্ষা করে সাত কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
১৯৬৬ সালের ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতীয় নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশের অন্যতম বড় যোগ্যতার মাপকাঠি ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাত ধরেই বাঙালির জাতীয়তাবাদের ধারণা বিকাশ লাভ করে। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা,১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা,১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঘটনার সাথে প্রথম যে নামটি উঠে এসেছে, সেটি হলো আওয়ামী লীগ।
![]() |
| বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ এর ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত (https://www.albd.org/bn/) |
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে ১৬৯ টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭ টি আসনে নির্বাচিত হয়। এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ৩০০ টি আসনের মধ্যে ২৯৮ টি আসনে নির্বাচিত হয়।নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতা হস্তান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক জান্তা সরকার অস্বীকৃতি জানালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
এবং ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪ দফা উপস্থাপন করেন। যার প্রেক্ষিতেই ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়।
সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে আলাদা করে মূল্যায়ন করার কোনো সুযোগ নেই।
প্রতিষ্ঠা পরবর্তী সময়ে যোগোযোগী সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সমূহ গ্রহণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মুজিবুর রহমান এর যোগ্য নেতৃত্ব পেয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিয়েছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ এবং দুর্যোগময় মুহূর্তে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাল শক্তভাবে ধরে রেখেছিলাম জাতীয় চার নেতা।
১৯৭১ সালের পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার সার্থকতা লাভ করে।
জন্ম নেয় একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র।
"বাংলাদেশ"
বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ এর ৭৪ তম জন্মদিনে বাংলাদেশকে অভিনন্দন।




Comments
Post a Comment