লোকসংস্কৃতি হলো, "লোকসম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক বিশ্বাস, আচার-আচরণ, জীবন-যাপন পদ্ধতি ও সাংস্কৃতিক মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সংস্কৃতি।"
এটা সম্পূর্ণই তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। দীর্ঘকাল ধরে গড়ে ওঠা এই সংস্কৃতি তাদের প্রকৃত পরিচয় বহন করে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতির ধারা তিনটি: নগরসংস্কৃতি, গ্রামসংস্কৃতি ও উপজাতীয় সংস্কৃতি।
বাংলাদেশ যেহেতু একটি গ্রাম প্রধান দেশ।
গ্রামের বিশাল জনগোষ্ঠী নিজস্ব
জীবনপ্রণালীর মাধ্যমে শতকের পর শতক ধরে যে বহুমুখী ও বিচিত্রধর্মী সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে, তা-ই বাংলার লোকসংস্কৃতি নামে অভিহিত।
বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি মূলত হিন্দু ধর্মালম্বীদের বিভিন্ন লোকজ ও পৌরাণিক দেব-দেবী। যেমন: (লক্ষ্মী, মনসা,শীতলা, ষষ্ঠী, ওলাদেবী, বনদূর্গা) এর প্রচলিত বিশ্বাস এবং এসব দেব-দেবীর বিপরীতে নিম্নবর্গের মুসলমানদের বিভিন্ন কাল্পনিক চরিত্র। যেমন:(সত্যপীর, গাজীপীর, মানিকপীর, মাদারপীর, খোয়াজ খিজির, ঘোড়াপীর, বনবিবি, ওলাবিবি, হাওয়া বিবি)উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
সত্যনারায়ণ ও সত্যপীর, বনদুর্গাদুর্গা ও বনবিবি যে একই ভাবনার ভিন্ন রূপ তাতে সন্দেহ নেই।
এছাড়াও বলীখেলা, নৌকা বাইচ,লাঠিখেলা, দারিয়াবান্ধা, ডাঙ্গুলি, ষোলঘুঁটি, কানামাছি, ঘুড়ি উড়ানো, মোরগ লড়াই, ষাড়ের লড়াইয়ে সর্বস্তরের মানুষের অংশ গ্রহণ এগুলোকে লোকসংস্কৃতির অন্যতম মানদন্ড হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন।
★★
১. গাজী গান: বৃহত্তম ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর অঞ্চলসমূহ গাজী গান বহুল প্রচলিত। গাজী পীর কে সুস্থতা দানকারী পীর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অসুস্থ কোন ব্যক্তির সুস্থতা কামনায় উদ্দেশ্যে মানত করা হয়। সুস্থতার পর মানত মোতাবেক গাজীপীরের গানের আসর হয়।
এক্ষেত্রে পাড়া প্রতিবেশীকে দাওয়াত করে পেশাদার বয়াতি ডেকে এনে গাজীপীরের গানের আসর হয়।আসরের মাঝখানে মাটির পাতিলে সোয়াসের চাউল, পান-সুপারি, নতুনকাপড় বাঁশের ঝুড়ি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এবং পাশে গাজী পীরের জন্য আসন রাখা হয়।
গান শেষে সবার মাঝে বাতাসা বা মিষ্টি বিতরণ করা।
২. লাঠি খেলা: বাংলাদেশের লাঠিখেলা মূলত মহরম পালনের সাথে জড়িত। মহররম ও কারবালার ঘটনা কেন্দ্র করে এদেশে সুলতানি আমলে লাঠি খেলার জন্ম হয়েছে, এমন ধারণা করা হয়। এছাড়াও জমিদার বা ধনাঢ্য ব্যক্তিদের বিয়ের অনুষ্ঠান, মুসলমানি, মুখে ভাত ইত্যাদি অনুষ্ঠানে লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকতো।
লাঠি খেলায় নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের ও মাপের বাঁশের লাঠি দিয়ে খেলোয়াড় বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শনের মাধ্যমে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে থাকে। লাঠি খেলা যথেষ্ট পরিশ্রম সাপেক্ষ খেলা হওয়ায় শুধুমাত্র যুবক ও বয়স্ক ব্যক্তিরাই লাঠি খেলায় অংশগ্রহণ করতো।
৩. নকশীকাঁথা: নকশি কাঁথা বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদ। গ্রামের মেয়েরা এর রূপকার। গৃহস্থালী কাজের পাশাপাশি ব্যবহার্য কাপড়ের বিভিন্ন টুকরার সাহায্যে চাদরের প্রয়োজন মেটানোর জন্য কাথা সেলাই করা হতো। এক্ষেত্রে কাপড়ের বিভিন্ন টুকরাকে একত্র করে প্রথমে জমিন(কাঁথার মূল আকৃতি) তৈরি করা হতো। পরবর্তীতে সুঁই-সুতোর সাহায্যে বিভিন্ন নকশা করে কাথা তৈরি সম্পন্ন করা হতো। কাঁথার প্রতিটি নকশাকে আলাদা করে পাড় বলা হয়। গ্রামের গৃহিণী মেয়েরা অবসর সময়ে একত্রে বসে কাঁথা সেলাই করতো ও পাশাপাশি গীত(একধরনের গান) গাইতো। বর্তমানে বানিজ্যিক উদ্দেশ্য নকশিকাঁথা তৈরি করা হয়। তবে জামালপুর জেলা ও যমুনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল নকশিকাঁথার মূল বিকাশ কেন্দ্র।
.jpeg)
.jpeg)
Comments
Post a Comment